নুরুল আমিন, লালমোহন: ভোলার লালমোহন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের বিরুদ্ধে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য গোপন এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবায়নাধীন টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য নিয়ম অনুযায়ী ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে গড়িমসি ও অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারকাচারী মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে মসজিদের মুসল্লিরা এ বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং টাকা মসজিদের ব্যাংক হিসাবেও জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্তে বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ পায়। একপর্যায়ে জুমার নামাজের সময় বিষয়টি উত্থাপিত হলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তা স্বীকার করা হয় বলে জানা গেছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তালিকা চাইতে গেলে পিআইও পলাশ সমদ্দার তথ্য দিতে টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টানা তিন দিন অফিসে গিয়েও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। আংশিক কিছু টিউবওয়েলের তথ্য দেওয়া হলেও পূর্ণ তালিকা সরবরাহ করা হয়নি।
এদিকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের তথ্য উপজেলা ‘তথ্য বাতায়নে’ প্রকাশ করা হলেও চলতি অর্থবছরের কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে অনলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল জোরপূর্বক প্রকল্পের তালিকা নিয়ে গেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে প্রকল্পের তালিকা চাওয়াটা স্বাভাবিক। পিআইও যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়।”
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান লিটন বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতি কমবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ জরুরি। কিন্তু তথ্য গোপনের কারণে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে।”
সূত্র মতে, কর্তা কাচারী মসজিদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা গত বছরের নভেম্বর মাসে উত্তোলন করা হলেও তা মসজিদের হিসাবে জমা না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ সম্পন্ন করে বাকি অর্থ আত্মসাত করা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকটি টিউবওয়েল প্রকল্পে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে ৫০-৫৫ হাজার টাকায় কাজ শেষ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও পলাশ সমদ্দার বলেন, “কোনো প্রকল্প আমরা সরাসরি বাস্তবায়ন করিনি। সব প্রকল্পই কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”