ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে অনির্বাণ স্কুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়: তদন্তের দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

  • রিপোর্টার
  • আপডট টাইম : ০৪:২৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৪ পঠিত

বরিশালে অনির্বাণ স্কুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়: তদন্তের দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকায় অবস্থিত ‘অনির্বাণ স্কুল’ যেন এখন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার মহান ব্রত ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। স্কুলের আড়ালে রমরমা ব্যবসা ও অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করলেও অনির্বাণ স্কুলের মূল উদ্দেশ্য এখন মুনাফা অর্জন। বই-খাতা, কাগজ-কলম থেকে শুরু করে স্কুল ড্রেস পর্যন্ত সবকিছুই স্কুল থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য করা হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও শিশুদের বসার চেয়ার, পিকনিক, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও স্কুল বার্ষিকীর নাম করে বছরজুড়েই অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যকর পরিচালনা কমিটি নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেন কেবল স্বামী-স্ত্রী মিলেই নিয়ন্ত্রণ করেন। ইতিপূর্বে যাকে সভাপতি করা হয়েছিল, তিনি বড় অঙ্কের অর্থ অনুদান দিলেও স্কুল পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় স্কুলের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুধু অভিভাবকদের কাছ থেকেই নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে নগরীর প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অনুদান সংগ্রহ করার অভিযোগ রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এসব অর্থের কোনো সঠিক হিসাব বা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের নথিপত্র সাধারণের সামনে কখনোই প্রকাশ করা হয় না।

স্কুলটিকে ঘিরে এমন ‘পারিবারিক ও ব্যবসায়িক’ সিন্ডিকেট ভেঙে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অনির্বাণ স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ

বরিশালে অনির্বাণ স্কুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়: তদন্তের দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

আপডট টাইম : ০৪:২৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকায় অবস্থিত ‘অনির্বাণ স্কুল’ যেন এখন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার মহান ব্রত ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। স্কুলের আড়ালে রমরমা ব্যবসা ও অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করলেও অনির্বাণ স্কুলের মূল উদ্দেশ্য এখন মুনাফা অর্জন। বই-খাতা, কাগজ-কলম থেকে শুরু করে স্কুল ড্রেস পর্যন্ত সবকিছুই স্কুল থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য করা হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও শিশুদের বসার চেয়ার, পিকনিক, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও স্কুল বার্ষিকীর নাম করে বছরজুড়েই অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যকর পরিচালনা কমিটি নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেন কেবল স্বামী-স্ত্রী মিলেই নিয়ন্ত্রণ করেন। ইতিপূর্বে যাকে সভাপতি করা হয়েছিল, তিনি বড় অঙ্কের অর্থ অনুদান দিলেও স্কুল পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় স্কুলের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুধু অভিভাবকদের কাছ থেকেই নয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে নগরীর প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অনুদান সংগ্রহ করার অভিযোগ রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এসব অর্থের কোনো সঠিক হিসাব বা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের নথিপত্র সাধারণের সামনে কখনোই প্রকাশ করা হয় না।

স্কুলটিকে ঘিরে এমন ‘পারিবারিক ও ব্যবসায়িক’ সিন্ডিকেট ভেঙে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অনির্বাণ স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন