ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজায় এক ঢিলে কত পাখি মারল সরকার

  • রিপোর্টার
  • আপডট টাইম : ০৩:০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৮৬ পঠিত

রোজায় এক ঢিলে কত পাখি মারল সরকার

ইংরেজিতে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ বলে একটা কথা আছে। আপনারা জানেন, এটা এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে জড়িত সব পক্ষই সমানভাবে লাভবান হয়। সাধারণত যখন কোনো পদক্ষেপে সব পক্ষই তুষ্ট হয়, তখন আর তা বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধাই থাকে না—‘এক ঢিলে সব পাখি কাত’।

পবিত্র রমজান মাসে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসাধিককাল বন্ধ ঘোষণা করে নতুন সরকার দৃশ্যত সব পক্ষকেই কাত করেছে। কিন্তু শুরুতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ‘জনপ্রিয়’ সিদ্ধান্তে আসলেই কি সব পক্ষ ‘উইন’ বা জয়লাভ করেছে? নাকি কার্যত এটা ‘লস-লস সিচুয়েশন’ তৈরি করেছে? যাতে শেষমেশ সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? বা আরেকটু কর্কশ ভাষায় একে কি ‘নো উইন সিচুয়েশন’ বলা যায়, যাতে কোনো পক্ষেরই জেতার পথ খোলা নেই?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মোটাদাগে জড়িত পক্ষ তিনটি—শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক এবং সরকার। দেখা যাক, এই সিদ্ধান্তে কার লাভ, কার ক্ষতি হলো।

রোজা রেখে বিশেষ করে শিশুশিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে অনেক ক্ষেত্রে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির বাতাস বয়ে নিয়ে এসেছে, সন্দেহ নেই। তার ওপর আমাদের দেশের শিক্ষা যেখানে ‘শাস্তির’ই নামান্তর, সেখানে এক মাস এই শাস্তি থেকে স্বস্তি পেতে কে না চায়?

এ প্রসঙ্গে কয়েক দিন আগে এক শিশুশিক্ষার্থীর সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা মনে পড়ে গেল। শিশুটি প্রথম শ্রেণিতে পড়ে, স্কুলেও নিয়মিত। ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তোমার সবচেয়ে ভালো লাগে কী?’ ও বলল, ‘ডিমভাজি দিয়ে ভাত।’ ‘স্কুল ভালো লাগে?’ পষ্ট জবাব, ‘না।’

শিক্ষাকে আমরা এখনো আনন্দদায়ক করে তুলতে পারিনি, সেটা ভিন্ন আলোচনা। এই আলাপচারিতা টানার উদ্দেশ্য, স্কুল বন্ধ তো ঐতিহাসিকভাবেই শিক্ষার্থীদের কাছে শাস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি। ফলে রোজায় স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের যারপরনাই আনন্দিত করেছে। কিন্তু তাদের শিখনঘাটতির কী হবে?

আরো পড়ুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ

রোজায় এক ঢিলে কত পাখি মারল সরকার

আপডট টাইম : ০৩:০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইংরেজিতে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ বলে একটা কথা আছে। আপনারা জানেন, এটা এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে জড়িত সব পক্ষই সমানভাবে লাভবান হয়। সাধারণত যখন কোনো পদক্ষেপে সব পক্ষই তুষ্ট হয়, তখন আর তা বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধাই থাকে না—‘এক ঢিলে সব পাখি কাত’।

পবিত্র রমজান মাসে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাসাধিককাল বন্ধ ঘোষণা করে নতুন সরকার দৃশ্যত সব পক্ষকেই কাত করেছে। কিন্তু শুরুতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ‘জনপ্রিয়’ সিদ্ধান্তে আসলেই কি সব পক্ষ ‘উইন’ বা জয়লাভ করেছে? নাকি কার্যত এটা ‘লস-লস সিচুয়েশন’ তৈরি করেছে? যাতে শেষমেশ সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? বা আরেকটু কর্কশ ভাষায় একে কি ‘নো উইন সিচুয়েশন’ বলা যায়, যাতে কোনো পক্ষেরই জেতার পথ খোলা নেই?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মোটাদাগে জড়িত পক্ষ তিনটি—শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক এবং সরকার। দেখা যাক, এই সিদ্ধান্তে কার লাভ, কার ক্ষতি হলো।

রোজা রেখে বিশেষ করে শিশুশিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে অনেক ক্ষেত্রে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির বাতাস বয়ে নিয়ে এসেছে, সন্দেহ নেই। তার ওপর আমাদের দেশের শিক্ষা যেখানে ‘শাস্তির’ই নামান্তর, সেখানে এক মাস এই শাস্তি থেকে স্বস্তি পেতে কে না চায়?

এ প্রসঙ্গে কয়েক দিন আগে এক শিশুশিক্ষার্থীর সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা মনে পড়ে গেল। শিশুটি প্রথম শ্রেণিতে পড়ে, স্কুলেও নিয়মিত। ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তোমার সবচেয়ে ভালো লাগে কী?’ ও বলল, ‘ডিমভাজি দিয়ে ভাত।’ ‘স্কুল ভালো লাগে?’ পষ্ট জবাব, ‘না।’

শিক্ষাকে আমরা এখনো আনন্দদায়ক করে তুলতে পারিনি, সেটা ভিন্ন আলোচনা। এই আলাপচারিতা টানার উদ্দেশ্য, স্কুল বন্ধ তো ঐতিহাসিকভাবেই শিক্ষার্থীদের কাছে শাস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি। ফলে রোজায় স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের যারপরনাই আনন্দিত করেছে। কিন্তু তাদের শিখনঘাটতির কী হবে?

আরো পড়ুন