ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ: বরিশালে পল্লী বিদ্যুতের ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান ৬ মাসের জন্য বহিষ্কৃত

  • রিপোর্টার
  • আপডট টাইম : ০১:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১৪৯ পঠিত

ঘুষ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ: বরিশালে পল্লী বিদ্যুতের ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান ৬ মাসের জন্য বহিষ্কৃত

বরিশাল প্রতিনিধি:ঘুষ গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম মো. আব্দুল হাই। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার ১০ নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় তাকে ৬ মাসের জন্য হাউজ ওয়্যারিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের নূর আহম্মেদ জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের কাছে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন আব্দুল হাই। পরবর্তীতে তিনি ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ তাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি কোনো জবাব দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১ এপ্রিল স্মারক নং-২৭১২০৬৫১৫৩৯০৫১৯২৬৯১৩-এর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুল হাই পল্লী বিদ্যুতের সূচনালগ্ন থেকেই চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে কাজ করছেন। বিগত ১৭ বছর ধরে তার আপন ছোট ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের দলীয় পরিচয় ও আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত শত সাধারণ গ্রাহককে জিম্মি করে অনৈতিক পন্থায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, আব্দুল হাই নতুন সংযোগ ও সার্ভিসের নামে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করতেন। এছাড়া নিম্নমানের ইলেকট্রিক সামগ্রী চড়া দামে গ্রাহকদের কিনতে বাধ্য করতেন। চন্দ্রমোহনের এক গ্রাহক জানান, তার সংযোগ দেওয়ার নামে ৩-৪ মাস ঘোরানোর পর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ আব্দুল হাইকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে।
গ্রাহক হয়রানি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তার স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ

ঘুষ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ: বরিশালে পল্লী বিদ্যুতের ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান ৬ মাসের জন্য বহিষ্কৃত

আপডট টাইম : ০১:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
বরিশাল প্রতিনিধি:ঘুষ গ্রহণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম মো. আব্দুল হাই। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার ১০ নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় তাকে ৬ মাসের জন্য হাউজ ওয়্যারিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের নূর আহম্মেদ জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের কাছে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন আব্দুল হাই। পরবর্তীতে তিনি ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ তাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি কোনো জবাব দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১ এপ্রিল স্মারক নং-২৭১২০৬৫১৫৩৯০৫১৯২৬৯১৩-এর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুল হাই পল্লী বিদ্যুতের সূচনালগ্ন থেকেই চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে কাজ করছেন। বিগত ১৭ বছর ধরে তার আপন ছোট ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের দলীয় পরিচয় ও আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি শত শত সাধারণ গ্রাহককে জিম্মি করে অনৈতিক পন্থায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, আব্দুল হাই নতুন সংযোগ ও সার্ভিসের নামে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করতেন। এছাড়া নিম্নমানের ইলেকট্রিক সামগ্রী চড়া দামে গ্রাহকদের কিনতে বাধ্য করতেন। চন্দ্রমোহনের এক গ্রাহক জানান, তার সংযোগ দেওয়ার নামে ৩-৪ মাস ঘোরানোর পর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ আব্দুল হাইকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে।
গ্রাহক হয়রানি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তার স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন