ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল সদরে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ: সঠিক মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও ফরিদা সুলতানা

  • রিপোর্টার
  • আপডট টাইম : ০৫:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৩ পঠিত

বরিশাল সদরে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ: সঠিক মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও ফরিদা সুলতানা

আনোয়ার হোসেন :গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দের আওতায় বরিশাল সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের ১০০টি অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ ফরিদা সুলতানা নিজ কার্যালয়ে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অসহায় পরিবারগুলোর হাতে এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই বিশেষ বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে চাল: ১০ কেজি,দেশি মশুর ডাল: ১ কেজি,আয়োডিন যুক্ত লবণ: ১ কেজি,চিনি: ১ কেজি,সয়াবিন তেল: ১ লিটার, হলুদের গুঁড়া: ২০০ গ্রাম, মরিচের গুঁড়া: ১০০ গ্রাম,ধনিয়া গুঁড়া: ১০০ গ্রাম,ত্রান বিতরণ করা হয়েছে।”জীবনে প্রথম সরকারি ত্রাণ পেলাম একজন অফিসারের হাত থেকে। শুনতাম সরকারি ত্রাণ গরিবদের জন্য, কিন্তু কোনোদিন পাইনি। দোয়া করি এমন অফিসারের জন্য।” সরকারি ত্রাণ সামগ্রী হাতে পেয়ে অশ্রুসজল চোখে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন অসহায় মাসুমা বেগম।শুধু মাসুমা নন, একই রকম আবেগঘন কথা বলেন ত্রাণ নিতে আসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তাছলিমা। তিনি বলেন, “আমার চোখে আলো নেই, কোনোদিন সরকারি ত্রাণ পাইনি। আজ আমি নিজে এসে একজন স্যারের কাছ থেকে ত্রাণ পেয়েছি। আমি উনার জন্য মন থেকে দোয়া করি।”উপজেলার প্রকৃত ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজে উপস্থিত থেকে এভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে এলাকায় সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ ফরিদা সুলতানা।ত্রাণ বিতরণ ও উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফরিদা সুলতানা বলেন, “বরিশাল আমার বাড়ি না। তাছাড়াও আমি যেখানেই চাকরি করি, সরকারি কোনো ত্রাণ আসলে আমি নিজে খুঁজে খুঁজে সঠিক ও উপযুক্ত লোকদের মাঝে তা দেওয়ার চেষ্টা করি।”তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বরিশালের সকল লোক আমার কাছে সমান। আমার উপজেলায় যে ধরনের সহযোগিতাই আসুক না কেন, উপযুক্ত ব্যক্তিরাই তা পাবে। এখানে আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই যে কাউকে বেশি দেব।”শুধু ত্রাণ বিতরণই নয়, উপজেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়েও অত্যন্ত সচেতন ও আন্তরিক এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, যে সকল ইউনিয়নে তুলনামূলকভাবে উন্নয়ন কম হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি ওয়ার্ডকে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তিনি।ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, “আমার অফিসের দরজা সর্বসাধারণের জন্য সবসময় খোলা। যেকোনো ব্যক্তি এসে সরাসরি আবেদন করতে পারেন। আমি নিজে তদন্ত করে সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করি।” উপজেলার সকল উন্নয়ন ও মানবিক কাজকে এগিয়ে নিতে তিনি সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন

ট্যাগ :

বরিশাল সদরে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ: সঠিক মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও ফরিদা সুলতানা

বরিশাল সদরে ১০০ অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ: সঠিক মানুষের হাতে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও ফরিদা সুলতানা

আপডট টাইম : ০৫:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনোয়ার হোসেন :গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দের আওতায় বরিশাল সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের ১০০টি অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ ফরিদা সুলতানা নিজ কার্যালয়ে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে সরাসরি উপস্থিত হয়ে অসহায় পরিবারগুলোর হাতে এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই বিশেষ বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে চাল: ১০ কেজি,দেশি মশুর ডাল: ১ কেজি,আয়োডিন যুক্ত লবণ: ১ কেজি,চিনি: ১ কেজি,সয়াবিন তেল: ১ লিটার, হলুদের গুঁড়া: ২০০ গ্রাম, মরিচের গুঁড়া: ১০০ গ্রাম,ধনিয়া গুঁড়া: ১০০ গ্রাম,ত্রান বিতরণ করা হয়েছে।”জীবনে প্রথম সরকারি ত্রাণ পেলাম একজন অফিসারের হাত থেকে। শুনতাম সরকারি ত্রাণ গরিবদের জন্য, কিন্তু কোনোদিন পাইনি। দোয়া করি এমন অফিসারের জন্য।” সরকারি ত্রাণ সামগ্রী হাতে পেয়ে অশ্রুসজল চোখে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন অসহায় মাসুমা বেগম।শুধু মাসুমা নন, একই রকম আবেগঘন কথা বলেন ত্রাণ নিতে আসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তাছলিমা। তিনি বলেন, “আমার চোখে আলো নেই, কোনোদিন সরকারি ত্রাণ পাইনি। আজ আমি নিজে এসে একজন স্যারের কাছ থেকে ত্রাণ পেয়েছি। আমি উনার জন্য মন থেকে দোয়া করি।”উপজেলার প্রকৃত ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজে উপস্থিত থেকে এভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে এলাকায় সততা ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ ফরিদা সুলতানা।ত্রাণ বিতরণ ও উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফরিদা সুলতানা বলেন, “বরিশাল আমার বাড়ি না। তাছাড়াও আমি যেখানেই চাকরি করি, সরকারি কোনো ত্রাণ আসলে আমি নিজে খুঁজে খুঁজে সঠিক ও উপযুক্ত লোকদের মাঝে তা দেওয়ার চেষ্টা করি।”তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বরিশালের সকল লোক আমার কাছে সমান। আমার উপজেলায় যে ধরনের সহযোগিতাই আসুক না কেন, উপযুক্ত ব্যক্তিরাই তা পাবে। এখানে আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই যে কাউকে বেশি দেব।”শুধু ত্রাণ বিতরণই নয়, উপজেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়েও অত্যন্ত সচেতন ও আন্তরিক এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, যে সকল ইউনিয়নে তুলনামূলকভাবে উন্নয়ন কম হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি ওয়ার্ডকে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তিনি।ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, “আমার অফিসের দরজা সর্বসাধারণের জন্য সবসময় খোলা। যেকোনো ব্যক্তি এসে সরাসরি আবেদন করতে পারেন। আমি নিজে তদন্ত করে সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করি।” উপজেলার সকল উন্নয়ন ও মানবিক কাজকে এগিয়ে নিতে তিনি সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন