ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম দিনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন

  • রিপোর্টার
  • আপডট টাইম : ০৫:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ১২৮ পঠিত

প্রথম দিনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হলে ওয়াকআউট করেন জামায়াত জোটের এমপিরা। তারা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়ে এবং বিভিন্ন বক্তব্য লেখা কার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান – ভিডিও থেকে

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ছিল ঘটনাবহুল। সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা, রাজনৈতিক বার্তা, শোক প্রস্তাবে যুদ্ধাপরাধীদের নাম, আওয়ামী লীগের সময়ে হওয়া রাষ্ট্রপতির মুখে সরকারি দলের ভাষণ, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নতুন বিরোধী দলের বিক্ষোভ, ওয়াকআউট মিলে গতকাল বৃহস্পতিবারের অধিবেশন ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠক প্রবীণ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে শুরু হয়। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হয়।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে বিরোধী দলে রয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ফলে সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সংসদের প্রথম দিনে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে মনে হয় সংসদে অতীতের রাজনৈতিক নানা প্রশ্ন আস্তে আস্তে সামনে আনা হবে।

গতকাল প্রথম দিনেই আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিষয় ত্রয়োদশ সংসদে উত্তাপ ছড়ায়। জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোটের এমপিরা রাষ্ট্রপতিকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে অধিবেশন কক্ষে নজিরবিহীন স্লোগান, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পর ওয়াকআউট করেন। আর সংসদের বাইরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এনসিপি।

অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রতিবাদের মুখে ভাষণ শুরু করা রাষ্ট্রপতি নিজ দল আওয়ামী লীগের শাসনামলকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে উল্লেখ করেন। যদিও শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংসকারী বলেছিলেন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে ভাষণ শেষ করা রাষ্ট্রপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। বিএনপি এ কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল।

রাষ্ট্রপতির এ ভাষণ বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপি জোটের এমপিরা টেবিল চাপড়ে বারবার রাষ্ট্রপতির ভাষণকে যখন সমর্থন জানাচ্ছিলেন, সেই সময়ে বিরোধীদের আসন ছিল শূন্য।

এ সময় অধিবেশন কক্ষে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তারা প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের পাশে বসেন।

বিএনপি বলছে স্ববিরোধিতা
সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ, কমিটি গঠন হলেও উত্তাপ ছড়ায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়। বিরোধী জোটের ওয়াকআউটকে তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বললেও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান নিয়ে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা, তাঁর কাছে শপথ নেওয়া হয়েছে। সেই রাষ্ট্রপতির বিরোধিতাকে স্ববিরোধিতা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অধিবেশন মুলতবির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন, তাদের দু-একজন তো এই সংসদেও সদস্য হয়ে আসছেন। তো, তাদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?’

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি অনুযায়ী ওয়াকআউট করতে পারেন। তারা ওয়াকআউট করেছেন। তারা আবার আসবেন।’

বিরোধীরা বলছে, রাষ্ট্রপতি অপরাধী 
বিএনপি স্ববিরোধিতা বললেও বিরোধীরা বলছে, নৈতিক কারণেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারা শুনতে পারেন না। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি অপরাধী। তিনি জুলাই হত্যার সহযোগী। আওয়ামী লীগ আমলের একটি খুনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেননি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন নাগরিকদের সঙ্গে।

যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে এখন আন্দোলন স্ববিরোধিতা কিনা– এ প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। পরে তিনি তা অস্বীকার করে নতুন গল্প সামনে এনে জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। এর পর তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।

জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত এমপিরা সংসদ সদস্য এবং পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। তা না করে তিনি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ জনগণকে অপমান করেছেন।
বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতি যখন বক্তব্য দিতে এসেছেন, তখন স্পিকারকে বারবার বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য দেবেন। সুযোগ না দেওয়ায় ওয়াকআউট করতে হয়েছে।

অধিবেশনের অন্যরকম শুরু
সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয় তাঁর সভাপতিত্বে। তবে এবার আগের সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় ব্যতিক্রম হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন এবং সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রস্তাবে সমর্থন জানান সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সব সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর তাঁর সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকারের নেতৃত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

উৎসবমুখর শুরুর পর উত্তাপ
দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন পরের কয়েক ঘণ্টা ছিল উৎসবমুখর। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা না ডাকায় বিরোধীরা ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ না করলেও অন্যান্য বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

উত্তেজনা তৈরি হয় বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ঘোষণা করেন– রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে আসবেন। এ সময় রাষ্ট্রপতিকে জুলাই গণহত্যাকারী আখ্যা দিয়ে জামায়াত জোটের এমপিরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এর তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি দল বিএনপির এমপিরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। কিন্তু দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করা বিরোধী জোটের এমপিরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না জানাতে নিজ নিজ আসনে বসে পড়েন। এ সময় জাতীয় সংগীত বাজলেও তারা বসে থাকেন। কিছু সময় পর আবার উঠে দাঁড়ান।
রাষ্ট্রপতি এসে বসেন স্পিকারের পাশের আসনে। বিরোধী দলের এমপিরা সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না জানিয়ে প্রতিবাদ জানাতে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা কার্ড উঁচিয়ে ধরে স্লোগান দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও প্রতিবাদে যোগ দেন। পুরো ঘটনা নিজ আসনে বসে প্রধানমন্ত্রী দেখেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ মঞ্চে উঠলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে প্রবেশপথে নেমে আসেন। বাধার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে শুরু করেন। তবে স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে তা শোনা যাচ্ছিল না।

রাষ্ট্রপতি প্রতিবাদকারীদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার লিখিত ভাষণ পড়া শুরু করেন। এ সময় বিরোধী এমপিদের নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নেননি কেউ। বিরোধীদের জমায়েত দেখে স্পিকার বলেন, মহান সংসদের রীতিনীতি যাতে ভঙ্গ না হয়। এমপিদের আসনে বসে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার নির্দেশ দেন স্পিকার। তবে তাতে কাজ হয়নি।
বিরোধীদলীয় এমপিরা সমস্বরে স্লোগান ধরেন– ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান।’ উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও স্লোগান দেন। স্লোগান দিতে দিতে তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হয়। এর পরপরই অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় সদস্যরা আর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেননি।
ডা. তাহের বলেন, বিএনপি চাইলে সাংবিধানিকভাবেই রাষ্ট্রপতিকে বিদায় করে তাঁর ভাষণ এড়ানো যেত। তা না করে সরকার পুরোনো বন্দোবস্তের প্রতি আঁতাতের মাধ্যমে সংসদ শুরু করেছে।

সংসদের বাইরে অবস্থান
অধিবেশন চলাকালে সংসদ ও আশপাশ এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার’ ব্যানারে শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও কয়েকজন আহত ছিলেন। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করেন।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আসে। সে সময় সংবিধানের দোহাই দিয়ে এবং নানা সংকট ও অস্থিতিশীলতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে দেননি। এখন আর কোনো সাংবিধানিক সংকট নেই। তাই আইনগতভাবে এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারেন।

প্রথম দিনেই বিভ্রাট 
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই কারিগরি ত্রুটিতে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এতে অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করেন স্পিকার। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই ঘোষণাও তাঁকে দিতে হয় হ্যান্ড মাইকে। অধিবেশনের পর জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ফেসবুকে সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ জানান।

আরো পড়ুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত

প্রথম দিনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন

আপডট টাইম : ০৫:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হলে ওয়াকআউট করেন জামায়াত জোটের এমপিরা। তারা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়ে এবং বিভিন্ন বক্তব্য লেখা কার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান – ভিডিও থেকে

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার পালাবদলের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ছিল ঘটনাবহুল। সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা, রাজনৈতিক বার্তা, শোক প্রস্তাবে যুদ্ধাপরাধীদের নাম, আওয়ামী লীগের সময়ে হওয়া রাষ্ট্রপতির মুখে সরকারি দলের ভাষণ, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নতুন বিরোধী দলের বিক্ষোভ, ওয়াকআউট মিলে গতকাল বৃহস্পতিবারের অধিবেশন ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠক প্রবীণ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে শুরু হয়। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হয়।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে বিরোধী দলে রয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ফলে সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সংসদের প্রথম দিনে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে মনে হয় সংসদে অতীতের রাজনৈতিক নানা প্রশ্ন আস্তে আস্তে সামনে আনা হবে।

গতকাল প্রথম দিনেই আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণের বিষয় ত্রয়োদশ সংসদে উত্তাপ ছড়ায়। জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোটের এমপিরা রাষ্ট্রপতিকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে অধিবেশন কক্ষে নজিরবিহীন স্লোগান, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পর ওয়াকআউট করেন। আর সংসদের বাইরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এনসিপি।

অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রতিবাদের মুখে ভাষণ শুরু করা রাষ্ট্রপতি নিজ দল আওয়ামী লীগের শাসনামলকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে উল্লেখ করেন। যদিও শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংসকারী বলেছিলেন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে ভাষণ শেষ করা রাষ্ট্রপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। বিএনপি এ কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল।

রাষ্ট্রপতির এ ভাষণ বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপি জোটের এমপিরা টেবিল চাপড়ে বারবার রাষ্ট্রপতির ভাষণকে যখন সমর্থন জানাচ্ছিলেন, সেই সময়ে বিরোধীদের আসন ছিল শূন্য।

এ সময় অধিবেশন কক্ষে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তারা প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের পাশে বসেন।

বিএনপি বলছে স্ববিরোধিতা
সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ, কমিটি গঠন হলেও উত্তাপ ছড়ায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়। বিরোধী জোটের ওয়াকআউটকে তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বললেও বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান নিয়ে।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা, তাঁর কাছে শপথ নেওয়া হয়েছে। সেই রাষ্ট্রপতির বিরোধিতাকে স্ববিরোধিতা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। অধিবেশন মুলতবির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন, তাদের দু-একজন তো এই সংসদেও সদস্য হয়ে আসছেন। তো, তাদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?’

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি অনুযায়ী ওয়াকআউট করতে পারেন। তারা ওয়াকআউট করেছেন। তারা আবার আসবেন।’

বিরোধীরা বলছে, রাষ্ট্রপতি অপরাধী 
বিএনপি স্ববিরোধিতা বললেও বিরোধীরা বলছে, নৈতিক কারণেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারা শুনতে পারেন না। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি অপরাধী। তিনি জুলাই হত্যার সহযোগী। আওয়ামী লীগ আমলের একটি খুনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেননি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন নাগরিকদের সঙ্গে।

যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে এখন আন্দোলন স্ববিরোধিতা কিনা– এ প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। পরে তিনি তা অস্বীকার করে নতুন গল্প সামনে এনে জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। এর পর তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।

জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত এমপিরা সংসদ সদস্য এবং পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। তা না করে তিনি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ জনগণকে অপমান করেছেন।
বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতি যখন বক্তব্য দিতে এসেছেন, তখন স্পিকারকে বারবার বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য দেবেন। সুযোগ না দেওয়ায় ওয়াকআউট করতে হয়েছে।

অধিবেশনের অন্যরকম শুরু
সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয় তাঁর সভাপতিত্বে। তবে এবার আগের সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় ব্যতিক্রম হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন এবং সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রস্তাবে সমর্থন জানান সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সব সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর তাঁর সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন। পরে নবনির্বাচিত স্পিকারের নেতৃত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

উৎসবমুখর শুরুর পর উত্তাপ
দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন পরের কয়েক ঘণ্টা ছিল উৎসবমুখর। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা না ডাকায় বিরোধীরা ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ না করলেও অন্যান্য বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

উত্তেজনা তৈরি হয় বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ঘোষণা করেন– রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে আসবেন। এ সময় রাষ্ট্রপতিকে জুলাই গণহত্যাকারী আখ্যা দিয়ে জামায়াত জোটের এমপিরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এর তিন মিনিট পর রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি দল বিএনপির এমপিরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। কিন্তু দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করা বিরোধী জোটের এমপিরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না জানাতে নিজ নিজ আসনে বসে পড়েন। এ সময় জাতীয় সংগীত বাজলেও তারা বসে থাকেন। কিছু সময় পর আবার উঠে দাঁড়ান।
রাষ্ট্রপতি এসে বসেন স্পিকারের পাশের আসনে। বিরোধী দলের এমপিরা সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সম্মান না জানিয়ে প্রতিবাদ জানাতে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা কার্ড উঁচিয়ে ধরে স্লোগান দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও প্রতিবাদে যোগ দেন। পুরো ঘটনা নিজ আসনে বসে প্রধানমন্ত্রী দেখেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ মঞ্চে উঠলে জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে প্রবেশপথে নেমে আসেন। বাধার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে শুরু করেন। তবে স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে তা শোনা যাচ্ছিল না।

রাষ্ট্রপতি প্রতিবাদকারীদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার লিখিত ভাষণ পড়া শুরু করেন। এ সময় বিরোধী এমপিদের নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নেননি কেউ। বিরোধীদের জমায়েত দেখে স্পিকার বলেন, মহান সংসদের রীতিনীতি যাতে ভঙ্গ না হয়। এমপিদের আসনে বসে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার নির্দেশ দেন স্পিকার। তবে তাতে কাজ হয়নি।
বিরোধীদলীয় এমপিরা সমস্বরে স্লোগান ধরেন– ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান।’ উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও স্লোগান দেন। স্লোগান দিতে দিতে তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হয়। এর পরপরই অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় সদস্যরা আর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেননি।
ডা. তাহের বলেন, বিএনপি চাইলে সাংবিধানিকভাবেই রাষ্ট্রপতিকে বিদায় করে তাঁর ভাষণ এড়ানো যেত। তা না করে সরকার পুরোনো বন্দোবস্তের প্রতি আঁতাতের মাধ্যমে সংসদ শুরু করেছে।

সংসদের বাইরে অবস্থান
অধিবেশন চলাকালে সংসদ ও আশপাশ এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার’ ব্যানারে শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও কয়েকজন আহত ছিলেন। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করেন।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আসে। সে সময় সংবিধানের দোহাই দিয়ে এবং নানা সংকট ও অস্থিতিশীলতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে দেননি। এখন আর কোনো সাংবিধানিক সংকট নেই। তাই আইনগতভাবে এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারেন।

প্রথম দিনেই বিভ্রাট 
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই কারিগরি ত্রুটিতে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এতে অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করেন স্পিকার। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই ঘোষণাও তাঁকে দিতে হয় হ্যান্ড মাইকে। অধিবেশনের পর জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ফেসবুকে সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ জানান।

আরো পড়ুন