
রমজান শেষের দিকে। ঈদের আনন্দে মুখর রাজধানী। টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট শপিংমল। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই রাজধানীজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। সূত্র বলছে, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রতি বছরই রাজধানী হয়ে ওঠে ‘মৌসুমি’ অপরাধীদের অন্যতম চারণভূমি। তবে এদের রুখতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অব্যাহত রয়েছে অভিযান। ধরাও পড়ছে অপরাধীরা। ঈদে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের প্রতি মানিস্কট সেবা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি।
ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে পড়লে মুহূর্তেই টাকা, মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। অন্যদিকে মলম পার্টির সদস্যরা জনাকীর্ণ বাস বা ভিড়ের মধ্যে মানুষের চোখে মরিচের গুঁড়ো বা বিষাক্ত মলম লাগিয়ে দেয়। এতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে মোবাইল, মানিব্যাগ বা ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অচেতন হওয়া রোগীরা এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, রাজধানীর নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার এবং শপিংমলগুলোতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার সিন্ডিকেট। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনায় ১৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৯টি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৪২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের ঘটনায় আরও ১৩৭টি মামলা হয়েছে। আর গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩০৮টি অভিযোগ জমা পড়ে।
পুলিশের তথ্য বলছে, এসব ঘটনার প্রায় ৬৫ শতাংশই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংঘটিত হয়। প্রায় ২০ শতাংশ ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত এবং বাকি ১৫ শতাংশ ছদ্মবেশে বা কথার ছলে পথচারীদের বিভ্রান্ত করে সংঘটিত হয়।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৮টি ক্রাইম জোনে ৪৩২টি হটস্পট রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে ৩৮৬ জন, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ২১২ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২১৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ১৫৪ জন সক্রিয় রয়েছে।
ঈদের বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ার সুযোগ নিচ্ছে জালনোট চক্রও। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, উন্নত স্ক্যানার ও প্রিন্টার ব্যবহার করে জাল টাকা তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে একটি চক্র। এ ছাড়া অনলাইনে বাসের টিকিট বা কেনাকাটার নামে প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অফার দিয়ে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়া কিংবা ওটিপি সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাব খালি করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শপিংমল ও বাস টার্মিনালগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পরিবহন টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা দেখলে নাগরিকদের দ্রুত জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানাতে বলা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেছেন, রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন
রিপোর্টার 















