
বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি থাকা এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১০টায় শাহনূর আলম শান্ত (৬০) ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মারা যান। শান্ত হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
এর আগে বগুড়া কারাগারে থাকা পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। তারা হলেন- গাবতলীর দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে ভুট্টু (৫২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন মিঠু (৬৫), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু(৫৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭) এবং বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন (৫৮)।
বগুড়া জেলা কারাগার, পরিবার ও মামলা সূত্র জানা গেছে- শান্ত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামানিকের ছেলে। তিনি হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ডান পা হারান। এরপর থেকে তিনি কৃত্রিম পায়ে চলাফেরা করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শান্ত আত্মগোপনে চলে যান।
গত ৪ জানুয়ারি বেলা ১২টার দিকে তিনি গোপনে বগুড়া শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের কাছে বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় সারিয়াকান্দির বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে আটক করে মারধর করে। সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওইদিনই তাকে বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির সদর থানায় দায়ের করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
জেলার নুরুল মুবীন জানান, গত ১৭ জানুয়ারি শান্তকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শান্তর ছোট ভাই ফারুক মিয়া জানান, তার একমাত্র ভাতিজি বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। শান্তর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাশ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই অমিত হাসান মাহমুদ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা শাহনূর আলম শান্তর এক পা কাটা ও পায়ে রড ঢুকানো আছে। তিনি গত ৪ জানুয়ারি শহরের নারুলী কৃষি ফার্মের সামনে বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। নিজ এলাকার লোকজন তাকে চিনতে পেরে আটক করে। এরপর তাকে মারপিট করতে থাকে। তখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির দায়ের করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে (শান্ত) হাজতে পাঠানো হয়েছিল।
রিপোর্টার 













